অর্থনীতি বড় ঝুঁকিতে পড়ার আশঙ্কা সিপিডির

img

বিজটেক২৪ ডটকম: চলতি বছর নির্বাচনী বছর হওয়ায় দেশের অর্থনীতি বড় ধরনের ঝুঁকিতে পড়ার আশঙ্কা করছে বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি)। এই ঝুঁকি মোকাবিলায় অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনায় ‘রক্ষণশীল’ নীতি নেওয়ার জন্য সরকারকে পরামর্শ দিয়েছে সংস্থাটি। এছাড়া ২০১৭ সালের আর্থিক দুর্বলতার পাশাপাশি ব্যাংক দখল, অর্থপাচার, দারিদ্র্য ও সম্পদের বৈষম্য বেড়ে যাওয়া এবং জিডিপির গুণগত প্রবৃদ্ধির বিষয়ে সমালোচনা করে সিপিডি।
শনিবার রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে ‘বাংলাদেশ অর্থনীতি-২০১৭-১৮ অর্থবছর প্রথম অন্তবর্তীকালীন পর্যালোচনা’ শীর্ষক মিডিয়া ব্রিফিংয়ে এসব মন্তব্য করেন সংস্থাটির গবেষকরা। অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন সিপিডির সম্মানীয় ফেলো ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য, ড. মোস্তাফিজুর রহমান, নির্বাহী পরিচালক ড. ফাহমিদা খাতুন, গবেষণা পরিচালক খোন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম। আর মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সংস্থাটির রিসার্চ ফেলো তৌফিকুল ইসলাম খান।
সিপিডির সম্মানীয় ফেলো ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্র্য বলেন, একটা প্রতিশ্রুতি দিয়ে ২০১৭ সাল শুরু হয়েছিল, সেটা ছিল বিনিয়োগ বাড়ানো। কিন্তু বছর শেষে সেই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়িত হয়নি। ব্যক্তিখাতের বিনিয়োগ বাড়েনি। তিনি বলেন, জিডিপি প্রবৃদ্ধি হলেও সেই তুলনায় দারিদ্র্য কমেনি। সে অনুযায়ী কর্মসংস্থানও হয়নি। আবার এই সময়ে সম্পদের বৈষম্যও বেড়েছে। ফলে ২০১৭ সালে সার্বিকভাবে সামষ্টিক অর্থনীতি দুর্বল হয়েছে।
তিনি বলেন, ২০১৭ সাল ছিল ব্যাংক খাতে কেলেঙ্কারির বছর। এই খাতে সংস্কার হওয়ার কথা থাকলেও তা হয়নি। চলতি বছর এমন ম্যাজিক্যাল কিছু ঘটবে না যাতে বড় ধরনের সংস্কার হবে। গত বছরের আর্থিক ব্যবস্থাপনার দুর্বলতার সঙ্গে চলতি বছরের নির্বাচন বাড়তি ঝুঁকি যোগ করবে। এজন্য রক্ষণশীল অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনা কার্যকর করতে হবে। ঋণ কমাতে হবে, টাকার মূল্যমান ঠিক রাখতে হবে, মূল্যস্ফীতি বিশেষ করে চালের দাম কমাতে হবে। নির্বাচনী বছরে বহুমুখী চাপ সামলাতে রাজনৈতিক দূরদর্শিতা প্রয়োজন।
প্রবৃদ্ধি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সামষ্টিক অর্থনীতির অগ্রযাত্রার মধ্যে ধনী-গরিব বৈষম্য বাড়ার জন্য প্রবৃদ্ধির গুণগত মানের অভাবই দায়ী। গত এক দশক ধরে আমাদের দেশ একটি শোভন প্রবৃদ্ধির হার রক্ষা করতে পেরেছে। কিন্তু এই শোভন প্রবৃদ্ধির হারের নিচে যে অন্ধকারটি রয়েছে সেটি হল দেশের ভেতরে সে তুলনায় কর্মসংস্থান হচ্ছে না, দারিদ্র্য বিমোচনের হার শ্লথ হয়েছে এবং অর্থনৈতিক বৈষম্য বৃদ্ধি পেয়েছে। সেই বৈষম্য শুধু আয়ে আর ভোগে বৃদ্ধি পায়নি, সবচেয়ে বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে সম্পদের বৈষম্য। এর কারণ হিসেবে ব্যাংকে ঋণের টাকা ফেরত না দেয়া, বড় বড় প্রকল্পের ভেতর থেকে বিভিন্ন ধরনের ঠিকাদারি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে অর্থ ভিন্ন দিকে পরিচালনা করাকে চিহ্নিত করেন তিনি।
ব্যাংক খাত সম্পর্কে তিনি বলেন, ব্যাংকের সামগ্রিক সূচক আরো খারাপ হয়েছে। খেলাপি ঋণের পরিমাণ বেড়েছে, শুধু তাই নয়, ঋণের টাকা কয়েক ব্যক্তির হাতে কেন্দ্রীভূত হয়েছে। সবচেয়ে বেশি আশঙ্কার জায়গা প্রশাসনিকভাবে বেশকিছু ব্যাংকের মালিকানা পরিবর্তন হয়েছে। তিনি আরো বলেন, দেশের আর্থিক ব্যবস্থাপনার দুর্বলতার জন্য অর্থ মন্ত্রণালয় দায়ী। অর্থ মন্ত্রণালয়ের সংস্কারের উদ্যোগের অভাব ছিল। বাংলাদেশ ব্যাংক, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড এবং ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সঙ্গে সমন্বয় ঘটাতে পারেনি অর্থ মন্ত্রণালয়।
সিপিডির সম্মানীয় ফেলো ড. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, আমদানির আড়ালে অর্থ পাচার হচ্ছে। বিশেষ করে পোশাক শিল্পের কাঁচামাল হিসেবে তুলা আমদানি ৭৫ শতাংশ বেড়েছে। যদিও উৎপাদনে তার লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। বিদেশি বিভিন্ন সংস্থার হিসেবে বাংলাদেশ থেকে প্রতি বছর ৮ থেকে ৯ বিলিয়ন ডলার পাচার হচ্ছে। এর মধ্যে ৮০ ভাগই আমদানি-রফতানিতে মূল্য কারসাজির মাধ্যমে। বিষয়টি বাংলাদেশ ব্যাংক ও জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের  (এনবিআর) খতিয়ে দেখা উচিত।
মূল প্রবন্ধে রোহিঙ্গা সম্পর্কে বলা হয়, গত বছরের আগস্ট থেকে চলতি বছরের জানুয়ারি পর্যন্ত ৬ লাখ ৫৫ হাজার ৫০০ জন রোহিঙ্গা মিয়ানমার থেকে বাংলাদেশে এসেছে। এটি ফিরিয়ে নেয়ার আলোচনা চলছে। বর্তমান প্রেক্ষাপট অনুযায়ী, প্রতিদিন যদি ৩০০ জনকে ফেরত পাঠানো হয়, তাহলেও সময় লাগবে কমপক্ষে ৭ বছর এবং এতোদিনে খরচ হবে কমপক্ষে ৪৪৩ কোটি ৩০ লাখ ডলার। আর যদি প্রতিদিন ২০০ জন ফেরত পাঠানো হয়, তাহলে সময় লাগবে কমপক্ষে ১২ বছর এবং খরচ হবে কমপক্ষে ১ হাজার ৪৫ কোটি ৬০ লাখ ডলার।



-->

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked with *

জব