নোভা ২ আই: মধ্যম বাজেটের সেরা ফোন

img

বিজটেক২৪ ডটকম: নোভা টু আই। দেশের বাজারে প্রথম চার ক্যামেরার স্মার্টফোন। বিশ্বব্যাপীও এটি চার ক্যামেরার ফোন হিসেবেই ইতিমধ্যেই আলোড়ন তুলেছে। একই সাথে ফোনটি প্রায় বেজেললেস। ২০১৭ সালের অক্টোবরে দেশের বাজারে উন্মোচিত হওয়া হুয়াওয়ের নোভা টু আই স্মার্টফোনটিতে প্রায় সবগুলো হাই এন্ড ফিচার পাওয়া যাবে। মধ্যম বাজেটের স্মার্টফোনটিতে রয়েছে ৫.৯ ইঞ্চি ডিসপ্লে। যার রেজুলেশন ১০৮০×২১৬০ পিক্সেল। এতে ব্যবহার করা হয়েছে ৪ জিবি র‍্যাম। এবার দেখা যাক ফোনটিতে আরো কি কি রয়েছে।

ডিজাইন: প্রিমিয়াম লুকের স্মার্টফোন নোভা ২ আই। ৫.৯ ইঞ্চি ডিসপ্লে হলেও বেজেল লেস ডিজাইন হওয়ার কারণে হাতে নিলে মনেই হবে না যে ফোনটি এত বড় ডিসপ্লের ফোন। মেটাল বডির পেছনে উপরেই আছে এলইডি সিঙ্গেল ফ্ল্যাশ লাইট, তার নিচে আছে ডুয়েল ক্যামেরা আর তার নিচেই রয়েছে ফিঙ্গার প্রিন্ট সেন্সর। নোভা টু আই ফোনটিতে ফিজিক্যাল হোম বাটন উঠিয়ে দিয়েছে হুয়াওয়ে। ওপরের অংশে বেজেল কমানো হয়েছে ৩১ শতাংশ এবং নিচের দিকে কমানো হয়েছে ৩৬ শতাংশ। ৫.৫ ইঞ্চি ডিসপ্লের তুলনায় এ ফোনটির স্ক্রিন টু বডি অনুপাতের ক্ষেত্রে ১০ শতাংশ উন্নতি করা হয়েছে। ফুল ভিউ ডিসপ্লের আগে ৫.৫ ইঞ্চির বড় ডিসপ্লের স্মার্টফোনকে ‘ফ্যাবলেট’ বলা হতো। কিন্তু হুয়াওয়ের এ ফোনটি হাতে নিলে তেমন কিছু মনে হবে না। বরং এটি অনেক আকর্ষণীয় এবং হাতে নিতে আরামদায়ক স্মার্টফোন বলেই মনে হবে। ফোনটির দু’পাশে কার্ভ ডিজাইন এটিকে আরও আকর্ষণীয় করেছে। স্পিকার, মাইক্রো ইউএসবি পোর্ট ও ৩.৫ মিমি হেডফোন জ্যাক আছে ফোনটির নিচের দিকে। হাইব্রিড সিম কার্ড ও মেমোরি কার্ড ট্রে রয়েছে ডান পাশে ওপরের দিকে। পেছনের ক্যামেরার বরারব নিচে ফিঙ্গারপ্রিন্ট সেন্সর রাখা হয়েছে। এতে মুঠোতে থাকা অবস্থায় খুব সহজেই ফিঙ্গারপ্রিন্ট দিয়ে ফোন আনলক করা যাবে।

ক্যামেরা: নোভা ২ আইতে ক্যামেরার সংখ্যা চারটি। ফুল ভিউ ডিসপ্লের স্মার্টফোনগুলোর মধ্যে বিশ্বে এ ফোনটিতেই প্রথমবারের মতো চারটি ক্যামেরা ব্যবহার করা হয়েছে। পেছনে ১৬ মেগাপিক্সেল ও ২ মেগাপিক্সেলের এবং সামনে ১৩ মেগাপিক্সেল ও ২ মেগাপিক্সেলের আরো দুটি ক্যামেরা রয়েছে। ২ মেগাপিক্সেলের ক্যামেরাগুলো মুলত যেকোনো পরিবেশে মূল ক্যামেরার ছবির সেরা ডেফথ ও ব্যাকগ্রাউন্ড পেতে সহায়তা করে। ফোনটির ক্যামেরা দিয়ে স্টুডিও লেভেল হাই সিআরআই (কালার রেন্ডারিং ইনডেক্স) ছবি তোলা সম্ভব। এ ছাড়া অন্ধকারে ভালো ছবি তোলার জন্য সামনে ও পেছনে টনিং ফ্ল্যাশ ব্যবহার করা হয়েছে। ফোনটির ক্যামেরা দিয়ে ফোরকে ভিডিও করা যাবে।
 
সেন্সর: বর্তমানের অন্যান্য স্মার্টফোনের মত নোভা ২ আইতেও রয়েছে বেশ কিছু সেন্সর ফিচার যেমনঃ ফিঙ্গার প্রিন্ট সেন্সর, ডিজিটাল কম্পাস, এম্বিয়েন্ট লাইট সেন্সর, প্রক্সিমিটি লাইট সেন্সর, এক্সেলেরোমিটার, স্ট্যাটাস ইন্ডিগেটর এবং এস এ আর সেন্সর।

ব্যাটারি: বর্তমানে স্মার্টফোন কেনার আগে সবাই ব্যাটারির প্রতি গুরুত্ব দিয়ে থাকেন। গ্রাহকদের সেই আগ্রহের কথা বিবেচনা করে হুয়াওয়ে এ ফোনটিতে ৩৩৪০ মিলি অ্যাম্পিয়ার ব্যাটারি ব্যবহার করেছে। ভারি ব্যবহারেও ফোনটি পুরোপুরি একদিন ব্যবহার করা যাবে আর একটু হালকা ব্যবহারে এক চার্জে প্রায় দুই দিন ব্যবহার করা যাবে। শক্তিশালী ব্যাটারি আপনাকে ২০ ঘণ্টা পর্যন্ত কথা বলার সাপোর্ট দিতে পারবে। ব্যাটারি চার্জিংয়েও অন্যান্য ফোনের চেয়ে দ্রুত চার্জ হয় নোভা টু আই ফোনের ব্যাটারি।

অপারেটিং সিস্টেম: ১.৭ গিগাহার্জ অক্টাকোর প্রসেসরের নোভা ২ আই স্মার্টফোনটির অপারেটিং সিস্টেম অ্যান্ড্রয়েড ৭.০ ন্যুগাট। ইউজার ইন্টারফেস (ইউআই) ইমোশন ইউআই ৫.১। এটি পাওয়ারড বাই হুয়াওয়ে কিরিন ৬৫৯। । এই চিপসেট মূলত মিড রেঞ্জের ফোন গুলোতে ব্যাবহার করা হয়।

স্টোরেজ: ৪ জিবি র‍্যাম এর এই ফোনটিতে ইন্টারনাল মেমরি রয়েছে ৬৪ জিবি। তবে চাইলে মাইক্রো এসডি কার্ড ব্যবহারের মাধ্যমে এর স্টোরেজ ২৫৬ জিবি পর্যন্ত বাড়ানো যাবে।

কানেক্টিভিটি: ওয়াই ফাই কানেকশন সুবিধার পাশাপাশি রয়েছে ইউ এস বি ২.০, ব্লু টুথ ভি ৪.২ এবং বি এল ই সাপোর্ট।এফ এম রেডিও রয়েছে। সাথে পাচ্ছেন ৩.৫ মিলি মিটার হেডফোন।

দাম: ফোনটির দাম ধরা হয়েছে ২৬,৯৯০ টাকা। বাজারে থাকা এ দামের অন্যান্য যেকোনো ফোনের চেয়ে এটির ফিচার বেশ মানসম্পন্ন।

এক নজরে স্পেসিফিকেশন
* এন্ড্রয়েড ৭.০ ন্যুগাট
* ৪ জিবি র‌্যাম
* হুয়াওয়ের নিজস্ব কিরিন ৬৫৯, অক্টাকোর ২.৩৬ গিগাহার্টজ প্রসেসর।
* ৬৪ জিবি রম (২৫৬ জিবি পর্যন্ত বাড়ানো যাবে)
* ওজন ১৬৪ গ্রাম
* ৫.৯ ইঞ্চি ফুল ভিউ ডিসপ্লে যার বডি টু ডিসপ্লে অনুপাত ১৮:৯। স্ক্রিন রেজুলেশন ২১৬০X১০০ পিক্সেল
* পেছনে ১৬ মেগাপিক্সেল ও ২ মেগাপিক্সেলের দুটি এবং সামনে ১৩ মেগাপিক্সেল ও ২ মেগাপিক্সেলের দুটি ক্যামেরা।
* ফিঙ্গারপ্রিন্ট সেন্সর
* ডুয়াল ন্যানো সিম স্লট
* থ্রিজি, ফোরজি সাপোর্টেড
* ৩৩৪০ মিলি অ্যাম্পিয়ার ব্যাটারি

সুবিধা
* নির্মাণ কোয়ালিটি এবং ডিজাইন চমৎকার।
* বেজেললেস হওয়ায় ফোন বড় না হলেও ডিসপ্লের আকার বড়।
* দামের তুলনায় বেশ মানসম্পন্ন।

অসুবিধা
* মেটাল ইউনি বডির কারণে পেছনটা একটু পিচ্ছিল, তাই হাত পিছলে পড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা আছে।
* অল্প আলোয় কিছুটা অসঙ্গতিপূর্ণ ছবি মনে হতে পারে।



-->

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked with *

জব