উন্নতির মূল মন্ত্রই পারস্পারিক সম্পর্ক -মো: ফাইজুর রহমান, চেয়ারম্যান, নোয়াপাড়া গ্রুপ

img

বিজটেক২৪ ডটকম
ইন্টারভিউ ডেস্ক: আমি মনে করি সাফল্যের মূল মন্ত্রই হল পারস্পারিক সম্পর্ক। একে অপরের সাথে ভাল সম্পর্ক থাকলেই একজন মানুষ উন্নতি করতে পারে। আর সব সময় পজেটিভ চিন্তা থাকতে হবে। পজেটিভ ধারণাই একজনকে উন্নতির সর্বোচ্চ শিখরে পৌঁছে দেয়।
একজন ব্যবসায়ী হিসেবে আমি মনে করি সব সেক্টারের মানুষের সাথে সুসম্পর্ক থাকা একান্ত প্রয়োজন। আজ যে ছোট আল্লাহর রহমতে কাল সে অনেক বড় হতে পারে। তাই পারস্পারিক সুসম্পর্কই উপরে উঠার সিঁড়ি বলে আমি মনে করি।
 
আর ব্যবসা করার আগে অবশ্যই মনে রাখতে হবে কোন ব্যবসাটা ভাল এবং দীর্ঘ মেয়াদী। যে ব্যবসা দীর্ঘদিন ধরে করা যায় সেটিকে বেছে নিতে হবে। যেমন খাদ্য সব সময় মানুষ গ্রহন করবে। কৃষি খাতের জন্য সব সময় সার প্রয়োজন। মানুষের রোগ ব্যাধির জন্য সব সময় ওষুধের প্রয়োজন। এ ধরনের ব্যবসা সততার সাথে করলে দীর্ঘদিন ধরে করা যায়।

যে কোন ব্যবসা করার আগে সে বিষয়ে অনেক বেশি জানতে হবে। আমি ব্যবসা শুরু করার আগে সেটির গভীরে গিয়ে জানার চেষ্টা করি। এমন কিছু নিয়ে পরিকল্পনা করতে হবে যেটি নিয়ে এখানো কেউ শুরু করেনি। মানুষকে নতুন কিছু দিতে পারলেই ব্যবসায় সাফল্য আসবে বলে আমি মনে করি।

আর ব্যবসা করতে গিয়ে প্রতিবন্ধকতা মোকাবেলা করার মত ক্ষমতা থাকতে হবে। নিজে ঠিক থাকলে যত প্রতিবন্ধকতাই আসুক তা মোকাবেলা করা সম্ভব। সততা থাকলে এবং নিয়ত ঠিক থাকলে আপনি আপনার লক্ষ্যে অবশ্যই পৌঁছে যাবেন। আমাদের মনে রাখতে হবে উপরে আল্লাহ আছেন। তাকে মনে করতে হবে, তাহলে উনিই (আল্লাহ) আপনাকে বিপদে পার করে দেবেন।

বর্তমানে ফার্মাসিউটিক্যালস সেক্টরে ক্যারিয়ার গড়ার অনেক সম্ভাবনা রয়েছে। এখানে কাজ শেখার যেমন সুযোগ রয়েছে তেমনি কাজ করারও ভাল সুযোগ রয়েছে। এই সেক্টরের মার্কেটিং বিভাগে যতো জনবল কাজ করে বাংলাদেশের অন্য কোন সেক্টরে এতো জনবল কাজ করে বলে আমার মনে হয় না। হাজার হাজার মানুষ এই সেক্টরে কাজ করছে। আমি মনে করি রফতানি আয়ে খুব দ্রুত ফার্মাসিউটিক্যালস সেক্টর দেশের গার্মেন্টস সেক্টরকেও ছাড়িয়ে যাবে।

এই সেক্টরে ভাল করতে হলে নিজেকে প্রন্তুত করে আনতে হবে কারন অন্যান্য সেক্টর থেকে এখানে কাজের পরিমান অনেক বেশি। যদি কেউ এখানে একটু বেশি শ্রম দেয় তাহলে সে দ্রুত উপরে উঠতে পারে।

ফার্মাসিউটিক্যালস সেক্টরে বিভিন্ন শিক্ষাগত যোগ্যতার ছেলে-মেয়েরা কাজ করছে। বিশেষ করে ফ্যাক্টেরীতে বেশির ভাগই ফার্মাসিষ্টরা কাজ করেন। আর পিএমডি এবং আইএমডি ডিপার্টমেন্টেও ফার্মাসিষ্টরা কাজ করেন। এছাড়া মার্কেটিং ও সেলস ডিপার্টমেন্টে বিবিএ, এমবিএ থেকে আসা ছেলে-মেয়েরা কাজ করছে।

ভাল মানের ওষুধ তৈরির কারনে অনেক আগে থেকেই বাংলাদেশ থেকে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ওষুধ রফতানি হচ্ছে। এরই ধারাবাহিকতায় কনকর্ড ফার্মাসিউটিক্যালসও ওষুধ রফতানি শুরু করেছে। বর্তমানে আমরা কেনিয়া ও ভুটানে ওষুধ রফতানি করছি। খুব শিগগিরই আমরা মিয়ানমার, ভিয়েতনামসহ অন্যান্য দেশেও রফতানি শুরু করবো।

আমরা এনার্জি সেক্টর নিয়েও কাজ করছি। আমাদের দেশে কয়লা একটি বড় সেক্টর। বছরে দেশে প্রায় ৬ বিলিয়ন টন কয়লার প্রয়োজন হয়। এর বেশির ভাগই আসে পার্শবর্তী দেশ ভারত থেকে। তবে ভারতের কয়লার মান অতি নিম্মমানের। এসব কয়লায় আবার ক্ষতিকর সালফার থাকে। আমরা ইন্দোনেশিয়া থেকে ভাল মানের কয়লা এনে ব্রিকস সেক্টরে সরবরাহ করছি। এই সেক্টরের সাথে কয়েক লাখ মানুষ জড়িত। কয়লার অভাবে অনেক সময় ইটের ভাটায় ইট করতে পারেনা মালিকরা। আমি মনে করি এই সেক্টরে সরকারের নজর দেয়া প্রয়োজন। যাতে নিম্মমানের কয়লা দেশে প্রবেশ করতে না পারে। এতে ক্ষতিকর সালফার থেকে নির্গত হওয়া কার্বন থেকে দেশ রক্ষা পাবে।



-->

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked with *

জব