কেন্দ্রীয় ব্যাংকের রিজার্ভ থেকে ৮০০ কোটি টাকা চুরি

img

বিজটেক২৪ ডটকম
ঢাকা: বাংলাদেশ ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ থেকে প্রায় ৮০০ কোটি টাকার সমপরিমাণ ডলার বিদেশি হ্যাকারদের মাধ্যমে চুরি হয়েছে বলে কেন্দ্রীয় ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে। চুরি হওয়া অর্থ ফেরত পেতে ইতিমধ্যে জোর তৎপরতা শুরু করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। 

​সংশ্লিষ্টদের ধারণা, প্রায় ৮০০ কোটি টাকার সমপরিমাণ ডলার বাংলাদেশ ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রার অ্যাকাউন্ট থেকে প্রথমে ফিলিপাইনের একটি ব্যাংকিং চ্যানেলে স্থানান্তর করে হ্যাকাররা। পরবর্তীতে সেখান থেকে এই অর্থ অন্য কোথাও পাচার করা হয়েছে। এর জন্য চীনার হ্যাকারদেরই দায়ী করছেন সংশ্লিষ্টরা।

অর্থ চুরির বিষয়টি জানার পর তা উদ্ধারে দ্রুত পদক্ষেপ নেয় বাংলাদেশ ব্যাংক। ওই অর্থ ফিলিপাইনে স্থানান্তরের বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পরই সেখানে দুই জন কর্মকর্তাকে পাঠানো হয়। গত ১৬-১৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ফিলিপাইনের কেন্দ্রীয় ব্যাংক এবং দেশটির অ্যান্টি মানি লন্ডারিং কাউন্সিলের (এএমএলসি) সঙ্গে বিশেষ বৈঠক করেছেন তারা।

জানা গেছে, ঘটনার পর বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর নিজেই দুইবার সংশ্লিষ্ট ডেপুটি গভর্নর, নির্বাহী পরিচালক ও মহাব্যবস্থাপকদের নিয়ে বৈঠক করেছেন। বৈঠকে দ্রুত এর প্রকৃত চিত্র বের করার নির্দেশ দেন। তবে সোমবার পর্যন্ত কোনো অগ্রগতির খবর দিতে পারেননি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

সূত্রে আরো জানা যায়, বাংলাদেশ ব্যাংক পুরো ঘটনায় বিব্রত হলেও ঘটনাটি কিভাবে ঘটল, কারা এর সঙ্গে জড়িত তা এখনো বের করতে পারেনি। দেশের আর্থিক গোয়েন্দা বিভাগও বিষয়টি নিয়ে কাজ করছে।

তবে বিষয়টি সার্বক্ষণিক তদারকি করছেন গভর্নর ড. আতিউর রহমান। এ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আতিউর রহমান বলেন, আমরা বিষয়টি গভীরভাবে খতিয়ে দেখছি। শিগগিরই এর অগ্রগতি জানাতে পারব।

এদিকে ফিলিপাইনের দৈনিক দ্য ইনকোয়েরার পত্রিকার এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, গত ২৯ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশ থেকে ১০ কোটি ডলার মানি লন্ডারিং হয়েছে। চীনা হ্যাকাররা বাংলাদেশ ব্যাংক অথবা সেখানকার কোনো আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে এ অর্থ হাতিয়ে নিয়েছে বলেও উল্লেখ করা হয়েছে ওই প্রতিবেদনে।

এতে আরো জানানো হয়েছিল, দেশটির মাকাতি শহরে অবস্থিত রিজাল কমার্শিয়াল ব্যাংকিং কর্পোরেশনের একটি শাখার মাধ্যমে ওই অর্থ ফিলিপাইনে নেয়া হয়। অর্থ পাচারের এই ঘটনা তদন্ত করছে ফিলিপাইনের অ্যান্টি মানি লন্ডারিং কাউন্সিল।

জানা যায়, রিজার্ভের অর্থ কোন দেশে, কোথায় বিনিয়োগ বা সংরক্ষণ করা আছে তা সুইফট কোডের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণ করা হয়। বিশ্বব্যাপী সুরক্ষিত হিসেবে বিবেচিত এ নেটওয়ার্ক হ্যাক করে রিজার্ভ থেকে টাকা চুরির ঘটনা ঘটেছে।



-->

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked with *

জব