গেইল তাণ্ডবে বিপিএলের শিরোপা রংপুরের

img

বিজটেক২৪: গেইল তাণ্ডবে বিপিএলের ৫ম আসরের শিরোপা জিতল মাশরাফি বিন মুর্তজার রংপুর রাইডার্স। বিপিএলের ইতিহাসেই ২০০ রান তাড়া করার রেকর্ড নেই মিরপুরের এ উইকেটে! তবে এমন অসহায় আত্মসমর্পণও নিশ্চয় আশা করেনি কেউ। ২০৭ রানের লক্ষ্যে নেমে ১৪৯ রানে থেমেছে সাকিবের ঢাকা ডায়নামাইটস। এর ফলে ৫৭ রানের বিশাল জয় নিয়ে প্রথমবারের মতো শিরোপা উৎসবে মাতল রংপুর রাইডার্স।
তারকায় ঠাসা দুই দলের ফাইনাল ঘিরে ম্যাচের আগে ছিল বেশ উত্তেজনা। কিন্তু ম্যাচে রোমাঞ্চের সবটুকু শুধুই গেইলের ব্যাটে। মিরপুর শের-ই-বাংলা স্টেডিয়ামে গেইলের অপরাজিত ১৪৬ রানে রংপুর রাইডার্স তোলে ২০৬ রান। একতরফা ফাইনালে ঢাকা ডায়নামাইটস করতে পারে ১৪৯ রান। এর ফলে টানা দ্বিতীয় শিরোপা জেতা হলো না ঢাকা ডায়নামাইটসের। প্রথমবার বিপিএলের ফাইনালে উঠেই চ্যাম্পিয়ন রংপুর।
অধিনায়ক হিসেবে নিজেকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে গেলেন মাশরাফি। বিপিএলের পাঁচ আসরের চারবারই তিনি শিরোপা জয়ী অধিনায়ক। এবারের ট্রফি জয়ে ব্যাটে-বলে-ফিল্ডিংয়ে সামনে থেকেই নেতৃত্ব দিয়েছেন মাশরাফি।
আগের ম্যাচের সেঞ্চুরিয়ান জনসন চার্লসকে শুরুতেই ফিরিয়ে দেন সাকিব। ঢাকা অধিনায়ক সেই ওভারে নিয়েছেন মেডেন উইকেট। গেইল শুরুতে ছিলেন সাবধানী, খুব একটা ছন্দ পাচ্ছিলেন না ম্যাককালামও। প্রথম ১০ ওভারে একটিই ছিল বড় ওভার। ষষ্ঠ ওভারে মোসাদ্দেকের বলে গেইলের দুই ছক্কা ও ম্যাককালামের এক ছক্কায় রান আসে ১৯। এর পরও ১০ ওভারে রংপুরের রান ছিল ১ উইকেটে ৬৩।
ঝড়ের আগে প্রকৃতি যেমন শান্ত হয়ে পড়ে, সেই রংপুরের ইনিংসের শান্ত অবস্থা ছিল আসলে সেটিরই প্রতিচ্ছবি। পরের ১০ ওভারে বল যতটা ছিল মাঠের ভেতর, তার চেয়ে বেশি ছিল সম্ভবত গ্যালারিতে। গেইলের রান ছিল এক পর্যায়ে ৩০ বলে ৩৫। সেখান থেকে টানা দুটি ছক্কা ও একটি চারে ৩৩ বলেই ফিফটি। এরপর ক্রমেই হতে ওঠেন অপ্রতিরোধ্য। জোড়ায় জোড়ায় ছক্কা মেরেছেন প্রায় প্রতি ওভারেই। সেঞ্চুরি করেছেন ৫৭ বলে। শেষ পর্যন্ত ৬৯ বলে অপরাজিত ১৪৬ রান করেন। এক ম্যাচ আগেই নিজের করা ১২৬ রানকে পেছনে ফেলে গড়লেন বিপিএলে সর্বোচ্চ ইনিংসের রেকর্ড। ৫টি চারের পাশে ইনিংসে ছক্কা মেরেছেন ১৮টি। এক ইনিংসে সবচেয়ে বেশি ছক্কার যেটি বিশ্ব রেকর্ড। এখানেও ছাড়িয়েছেন নিজের ১৭টি ছক্কার রেকর্ড। প্রথম ব্যাটসম্যান হিসেবে স্পর্শ করেছেন ১১ হাজার টি-টোয়েন্টি রান। প্রথম ব্যাটসম্যান হিসেবে করেছেন বিপিএলে ছক্কার সেঞ্চুরি। আর ম্যাককালাম চারটি চার ও তিন ছক্কায় ৪৩ বলে অপরাজিত ৫১ রান করেন।
এই রান তাড়া কঠিন চ্যালেঞ্জ হলেও ঢাকার ব্যাটিং শক্তি বিবেচনায় অসম্ভব ছিল না। প্রয়োজন ছিল ভালো শুরু। তবে তা হলো না। বিস্ফোরক ব্যাটিংয়ে উজ্জীবিত রংপুর বল হাতেও শুরুটা করে দুর্দান্ত। প্রথম ওভারে মাশরাফি ফেরান মেহেদি মারুফকে। দ্বিতীয় ওভারে জো ডেনলিকে ফেরান সোহাগ। রানের খাতা খুলতে পারেননি কেউ। এরপরও রংপুরকে বেগ দিতে পারতেন এভিন লুইস। সোহাগের বলে দুর্দান্ত ক্যাচে লুইসকে ফিরিয়ে মাশরাফি দূর করে দেন সেই বাধাও। ২৯ রানে ৪ উইকেট হারিয়ে ঢাকা ছিটকে যায় লড়াই থেকে। জহুরুল ইসলামের ৩৮ বলে ৫০ রানের ইনিংসে ম্যাচের দৈর্ঘ্য একটু বেড়েছে, কমেছে হারের ব্যবধান।

সংক্ষিপ্ত স্কোর
রংপুর রাইডার্স: ২০ ওভারে ২০৬/১(চার্লস ৩, গেইল ১৪৬*, ম্যাককালাম ৫১*; মোসাদ্দেক ০/৩২, সাকিব ১/২৬, নারাইন ০/১৮, আফ্রিদি ০/২৮, আবু হায়দার ০/২৬, খালেদ ০/৩৯, পোলার্ড ০/৩৩)।

ঢাকা ডায়নামাইটস: ২০ ওভারে ১৪৯/৯ (মারুফ ০, লুইস ১৫, ডেনলি ০, সাকিব ২৬, পোলার্ড ৫, জহুরুল ৫০, মোসাদ্দেক ১, আফ্রিদি ৮, নারাইন ১৪, আবু হায়দার , খালেদ ; মাশরাফি ১/২৫, সোহাগ ২/৩২, রুবেল ১/২৮, বোপারা ১/২১, উদানা ২/২৫, অপু ১/২৫, গেইল ০/২)।

ফল: রংপুর রাইডার্স ৫৭ রানে জয়ী

ম্যান অব দা ম্যাচ: ক্রিস গেইল
ম্যান অব দা টুর্নামেন্ট: ক্রিস গেইল



-->

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked with *

জব